নাচুনে ক্লাবের নাচানো

Nion light sign of D Club of Cafe Mango

Nion light sign of D Club of Cafe Mango

বহুদিনের শখ ছিলো ড্যান্স ক্লাবে গিয়ে নাচবো! দেখতে দেখতে শৈশব চলে গিয়ে কৈশরে পড়েছি আর এখন যৌবনে। আর মাত্র অল্প কয়েকটা দিন; তারপরে এটাও চলে যাবে। প্রফেশনাল জীবনকে আঁকড়ে ধরে রাখতে গিয়ে অনেক শখ আহ্লাদই জীবন থেকে বাদ দিতে হয়েছে! তাই আর যে অল্প কয়টা দিন আছে আনন্দ করেই পার করবো।

ফেসবুক থেকে জানতে পারলাম গুলশানের ক্যাফে মেঙ্গো-তে সুপারস্টার নামে এক ডিজে গ্রুপ ড্যান্স নাইটের আয়োজন করছে। ৬০০ আর ৮০০ টাকা টিকেট। যেই ভাবা সেই কাজ! পার্থ আর আমি চলে গেলাম। রাত্র আটটার দিকে আয়োজন শুরু হবে। আমরা সাতটার দিকেই ক্যাফে মেঙ্গোর ফুড সেন্টারে বসে আড্ডা দিতে শুরু করলাম।
এরপর রাত আটটা!….. না, এখনো শুরু হয়নি। কিছু একটা সমস্যা হয়েছে, আরো এক ঘন্টা পর শুরু হবে। থাকলাম বসে.. কিছুক্ষন এখানে ওখানে হাঁটাহাটি করলাম। এর মধ্যে দেখলাম পাশ্চাত্য ফ্যশনের টাইট আউটফিটে অনেক ললনাই বয়ফ্রেন্ড নিয়ে হাজির। মনে মনে আমারটাকে মিস্ করা শুরু করলাম …. :(
রাত নয়টা…. এই আরেকটু পরেই নাকি শুরু হবে… এবার বিরক্ত লাগছে। ভাবছি মান সম্মানের মাথা খেয়ে টাকা ফেরত নিয়ে আসবো নাকি! পার্থ আর আমি মিলে ১,২০০ টাকা! খচ্  খচ্ করছে মনটা! এই টাকায় KFC-তে চলে গেলেও-তো হতো।
রাত সাড়ে নয়টা… মাথা গরম হয়ে গেছে আমার… ডিজের লোকেরা আমাকে বোঝানো শুরু করেছে আর অল্প কিছুক্ষন.. হয়তো পাঁচ মিনিট… শুরু হয়ে যাবে!
শেষ পর্যন্ত শুরু হলো… রাত দশটার দিকে। কোত্থেকে যেন একটা মেয়ে ধরে নিয়ে এসেছে। মেয়েটা বহুল ব্যবহৃত নাচুনে পোষাক পরা। … মিউজিক শুরু হলো… ডিজের একজন মেয়েটাকে ফিল্ডের মাঝখানে এনে ছাড়লো। মেয়েটা তার ওড়না গলায় দিয়ে পেছনে ঝুলিয়ে দিলো। উদ্দেশ্যটা পরে বুঝলাম। টপসের বি-শা-ল গলা! ওড়না দিয়ে এতোক্ষন ঢেকে রেখেছিলো।
নাচার ইচ্ছে আমার বহু আগে চলে গেছে। পার্থ’র দিকে তাকালাম। ব্যাটা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে জগিং করছে…! “তোর সমস্যা কি?” জিজ্ঞাসার উত্তর দিলো, সে নাকি নাচছে!
আশে পাশে তাকালাম। ডিজের লোকজনেরাই নাচানাচি করছে। আর বাকি সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর ৫-১০ মিনিট পড়ে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে আসা ললনারা ভাগা শুরু করলো। আরো ১০ মিনিট পরে লক্ষ্য করলাম, আমি আর পার্থ ছাড়া সবাই ডিজে’র লোকজন!!! ওরাই ১০-১২জনের মতো… লাফাচ্ছে.. কোমড় দুলাচ্ছে…! আমি আর পার্থ বের হয়ে আসলাম।

টিকেটের সাথে তিনটা কুপন ছিলো। ঐ কুপনে একটা মুরগির রোষ্ট আর কিছু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই (খাঁটি বাংলায় আলু ভাজি) পাওয়া গেলো।

টের পেলাম ১,২০০ টাকার ব্যাথা বুকের একপাশে চিন্ চিন্ করছে!

One Response to “নাচুনে ক্লাবের নাচানো”

  1. m@q March 16, 2009 8:01 pm
    #

    নাচুনেরা আপনাদের আর্থিকভাবে নাচিয়ে ছাড়লো!!

Leave a Reply

*